১৬ বছর পরও মানুষের মুখে সাইফুল ইসলামের উন্নয়নের গল্প বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই জননেতা
১৬ বছর পরও মানুষের মুখে সাইফুল ইসলামের উন্নয়নের গল্প বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই জননেতা
নিজস্ব প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উঠে এসেছে প্রায় ১৬ বছর আগের এক উন্নয়ন উদ্যোগের স্মৃতি। সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছু বদলে গেলেও মানুষের কল্যাণে করা কাজগুলো আজও তারা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন নেতা সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পীরগঞ্জের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর পিতা মরহুম আজিজার রহমান প্রায় ১০ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পারিবারিক সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সাইফুল ইসলাম নিজেও প্রায় ১৪ বছর চেয়ারম্যান এবং টানা ১৯ বছর পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
সম্প্রতি পীরগঞ্জ উপজেলার ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গেলে স্থানীয়দের মুখে উঠে আসে ২০১০ সালের একটি ঘটনা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় মন্ডলের বাজার, একবারপুর উত্তরপাড়া, খালিশা, ধরলাকান্দি, এনায়েতপুর, দামদরপুর ও বড়পাহাড়পুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ ছিল না। এলাকার মানুষ সমস্যার কথা নিয়ে সাইফুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, তাঁর উদ্যোগেই প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুতের লাইন সম্প্রসারণ করা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ কাজে সাধারণ মানুষের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে। আজও সেই এলাকার মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বিষয়টি স্মরণ করেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, “সাইফুল চেয়ারম্যানের সহযোগিতা না থাকলে হয়তো এত দ্রুত বিদ্যুতের সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতো না। তিনি মানুষের কথা শুনতেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতেন।”
রাজনৈতিক অঙ্গনেও সাইফুল ইসলামকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যাপক গণসমর্থন থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত ফল আসেনি। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলার হাতে গোনা কয়েকজন নেতার পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করা ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার কারণে সাংগঠনিকভাবে কিছু দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল।
তাঁরা আরও দাবি করেন, অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী ও বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা বা আর্থিক প্রত্যাশা ছাড়াই দলের প্রার্থী ও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন। অনেকেই বলেন, “দলের জন্য কাজ করেছি আদর্শের জায়গা থেকে, ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা রয়েছে যে, কিছু ভুল রাজনৈতিক মূল্যায়ন, বিভ্রান্তিকর পরামর্শ এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা নির্বাচনী কৌশলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে এসবই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মতামত।
সবশেষে স্থানীয়দের অভিমত, একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় মানুষের স্মৃতিতে। আর সেই কারণেই ২০১০ সালের পল্লী বিদ্যুতায়নের মতো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আজও মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। রাজনৈতিক সাফল্য-ব্যর্থতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু মানুষের জন্য করা কাজ দীর্ঘদিন ধরে জনগণের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।
বিকল্প হেডলাইন:
বিদ্যুতের আলো থেকে মানুষের ভালোবাসা—১৬ বছর পরও স্মরণে সাইফুল ইসলাম
উন্নয়নের ছাপ আজও অমলিন: পীরগঞ্জে মানুষের মুখে মুখে সাইফুল ইসলামের নাম
জনগণের জন্য করা কাজই বড় পরিচয়—১৬ বছর পরও আলোচনায় সাইফুল ইসলামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স